রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের অভিযোগ ভুয়ো

শিলিগুড়ির শালুগাড়ায় সন্ন্যাসীদের ওপর হামলা হয়েছিল তার মালিক রামকৃষ্ণ মিশনই। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে একথা স্বীকার করল শিলিগুড়ি কমিশনারেটের পুলিশ। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার দীপক সরকার কার্যত স্বীকার করে নেন, রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলায় জামিন অযোগ্য ধারা প্রয়োগ করেছে ভক্তিনগর থানা।গত ১৯ মে রাতে শিলিগুড়ির শালুগাড়ায় রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রমে হামলা চালায় প্রদীপ রায় নামে এক দুষ্কৃতী। জনা ৪০ গুন্ডা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহারাজাদের নিগ্রহ করে সে। মিশনের আবাসিকদের অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এর পর ভক্তিনগর থানায় অভিযোগ জানায় রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষ। তার দেড় ঘণ্টা পরে পালটা মহারাজদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করে প্রদীপ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার স্বামী অক্ষয়ানন্দ মহারাজের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে ভত্তিনগর থানার পুলিশ।বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে শিলিগুড়ির ডেপুটি কমিশনার জানান, ওই জমি মালিকানা দাবি করে প্রদীপ রায় যা বলছে তা মিথ্যা। প্রদীপের দাবি, ওই জমি টুকা সিং নামে এক নিঃসন্তান ব্যক্তির।

সেখানে থাকতেন তার মা বিদ্যেশ্বরী রায়। সেই সূত্রে জমি প্রদীপের প্রাপ্য। কিন্তু আদালতের নথি বলছে, জমিটি টুকা সিং বিক্রি করে দিয়েছিলেন হরদয়াল সিং গিল নামে এক ব্যক্তির কাছে। তাঁর কাছ থেকে জমিটি কেনেন এসকে রায় নামে এক ব্যক্তি। তিনি দানপত্র করে জমি ও সম্পত্তি রামকৃষ্ণ মিশনকে দেন। ফলে জমি যে রামকৃষ্ণ মিশনেরই তা প্রমাণিত।ওদিকে পুলিশ যে অক্ষয়ানন্দ মহারাজের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে তিনি আদপে প্রয়াগরাজ রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী। ১৫ বছর ধরে প্রয়াগরাজেই রয়েছেন তিনি। এহেন সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে কেন শিলিগুড়িতে জমি দখলের অভিযোগ পেয়েই কড়া ধারা প্রয়োগ করা হল তা নিয়ে কোনও জবাব দিতে পারেনি পুলিশ। রামকৃষ্ণ মিশনের অভিযোগের পর প্রদীপ রায় পালটা অভিযোগ করতে থানায় এলেও কেন তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হল না তা নিয়েও কোনও গ্রহণযোগ্য জবাব দিতে পারেননি ওই পুলিশ আধিকারি। শুধুমাত্র জানিয়েছেন, ভুয়ো মামলা হলে আইন মেনে পদক্ষেপ করা হবে।