কুসংস্কারের অন্ধকারে ডুবে, গ্রামের এক মহিলাকে শেষ পর্যন্ত এ কিসের অপবাদ দেওয়া হল? দেখুন, রাজ্যের বুকে সেই ঘটনা….

সানি রায় মালদহ :- এটা কি সত্যিই কোন ভদ্র শিক্ষিত সুশীল সমাজ? নাকি শিক্ষিত হয়েও আজ আমরা, আচরণ করছি এমন পশু সুলভ?তবে, নাওয়া খাওয়া ভুলে কেন হঠাৎ এই মহিলার শারীরিক এবং মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে, কেন দেওয়া হলো এমন অপবাদ?দেখুন, যে ঘটনা দেখলে হয়তো আপনি নিজেও স্থির হয়ে যাবেন…..আদিবাসী গ্রামে ফের কুসংস্কারের ছায়া! গ্রামের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা অসুস্থ বেশ কিছুদিন ধরে আর তার কারণ খুঁজতে উঠে এসেছিল গ্রামেরই এক মহিলার নাম৷ এনিয়ে গ্রামে সভাও হয়৷ সভার নিদানে ওই মহিলাকে ডাইনি হিসাবে চিহ্নিত করে গ্রামের আদিবাসী সমাজ৷তবে, অভিযোগ, এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন ওই পঞ্চায়েত সদস্যা ও তাঁর তৃণমূল নেতা স্বামী৷

লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ওই মহিলাকে নিয়ে যান পাশের গ্রামের এক গুণিনের কাছে৷ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিবেশী আরও এক মহিলাকে৷ অনেকটা সময় ধরে তুকতাকের পর গুণিন ওঝা ওই মহিলাকে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে, এরপরেই পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী ও দলের লোকজন ফুসকিন চিহ্নিত মহিলাকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ৷ এমনকি তাকে প্রাণে মেরে ফেলারও চেষ্টা করা হয়।কিন্তু, শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদহের ভাবুক অঞ্চলের একটি গ্রামে৷ পরের অভিযোগ আরও মারাত্মক৷

ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়ে ডাইনি চিহ্নিতা নিগৃহীতা মালদহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে যান৷ কিন্তু কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার তাঁর সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেননি৷ তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অভিযোগপত্রে ‘ফুসকিন’ শব্দটি থাকা চলবে না৷ বাধ্য হয়ে পুলিশের কথামতো দ্বিতীয়বার অভিযোগপত্র লিখতে বাধ্য হন নিগৃহীতা৷ এই ঘটনায় গ্রামের গুণি ওঝা সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি৷তবে একটাই প্রশ্ন! শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই কি এমন ঘটনা হলো? নাকি শিক্ষিত সমাজের আড়ালে তারা আদতেই অশিক্ষিত?